রাশিয়ার শত কোটি ইউরোর জ্বালানি বাণিজ্য বন্ধ করছে ইউরোপ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাশিয়া থেকে পাইপলাইন গ্যাস এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নতুন একটি আইন পাস করেছে।
ব্লকের ২৭টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে রাশিয়ান জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ বা ‘ফেজ আউট’ করার এই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে। ব্রাসেলসে গৃহীত এই নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হলো জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনা এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করা।
এই নতুন প্রবিধান অনুযায়ী আইনটি কার্যকর হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর থেকে আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর শুরু হবে। তবে বাজার ও মূল্যের ওপর আকস্মিক প্রভাব কমাতে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট রূপান্তরকালীন সময় রাখা হয়েছে।
এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের শুরু থেকে এবং পাইপলাইন গ্যাসের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের শরৎকাল থেকে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। প্রতিটি সদস্য দেশকে এখন থেকে গ্যাস আমদানির আগে তা কোন দেশে উৎপাদিত হয়েছে, তা কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে।
ইউরোপীয় কাউন্সিল জানিয়েছে, এই নিয়ম অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে অন্তত ২৫ লাখ ইউরো এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অন্তত ৪ কোটি ইউরো বা বৈশ্বিক বার্ষিক টার্নওভারের ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে প্রতিটি সদস্য দেশকে বিকল্প উৎসের জাতীয় পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। তবে কোনো দেশে জরুরি অবস্থা বা জ্বালানি সংকট দেখা দিলে কমিশন সর্বোচ্চ চার সপ্তাহের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার ক্ষমতাও সংরক্ষণ করেছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্টা মেটসোলা এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ইউরোপ এখন নিজের জ্বালানি সরবরাহের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।
যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ৩ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, তবে ২০২৫ সালেও ইউরোপের মোট গ্যাস আমদানির ১৩ শতাংশ রাশিয়া থেকে আসছে, যার বার্ষিক মূল্য ১৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। এই ঝুঁকি কমাতেই ইইউ ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ান তেল আমদানির পথও পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে। সাইপ্রাসের জ্বালানি মন্ত্রী মাইকেল দামিয়ানোস বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপীয় জ্বালানি বাজার আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল এবং স্বায়ত্তশাসিত হবে।

